বন্ধুর সাথে ফরিদপুর শহরে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যরনরত অবস্থায় অামার বেশ কিছু সহপাঠীর সাহচর্য পেয়েছি যারা অসাধারণ মানুষ। মিরাজ উদ্দীন শফিক অামার প্রিয় সহপাঠীদের একজন। মিরাজ বেশ কয়েকটি সরকারী চাকুরি অদল বদল করে শেষ পর্যন্ত এখন বিসিকের কর্মকর্তা হিসেবে থিতু হয়েছে। ২০১৬ সালে তার কর্মস্থল ছিল ফরিদপুর। পরবর্তীতে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে বড় পদে আসীন হয়। কিশোরগঞ্জের ছেলে শফিকের আতিথেয়তায় ফরিদপুরে কেটেছিল দুটো অসাধারণ দিন। অামরা মিরাজকে চিনতাম বইয়ের সমঝদার হিসেবে। ক্যাম্পাসে তার ছোট্ট কামরাটিতে সর্বত্র ছিল বইয়ের ছড়াছড়ি। বালিশের নিচে, বিছানার উপর, টেবিলের সর্বত্র, বুক শেলফে অজস্র এলোমেলো বই। ফরিদপুর গিয়েও সেই বিষয়টি অাবিষ্কার করলাম। সরকারী কোয়ার্টারে তার থাকার জায়গাটি মূলত বই অার দৈনিক পত্রপত্রিকার স্টোর রুম। এমনকি মিরাজের অফিসের টেবিলেও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার তথা বিসিএসের প্রস্তুতির বইয়ের সরব উপস্থিতি।

কথা ছিল ২০১৬ সালের এপ্রিলের ২২ তারিখ ফরিদপুর যাব বাসে করে। কিন্তু শফিক নিজস্ব প্রয়োজনে ঢাকা অাসায় পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন অানতে হল। শনিবার খুব সকালবেলা গাবতলী গিয়ে হাজির হলাম। অপেক্ষায় ছিলাম শফিকের। বাস স্ট্যান্ডেরও মজার কিছু ফিলোসফি আছে মনে হয়। সায়দাবাদ একরকম, মহাখালী অন্যরকম। গাবতলীও স্বতন্ত্র। মাইক থেকে ঘোষণা আসছিল যেন যাত্রীদেরকে সঠিক কাউন্টারে যেতে দেয়া হয়। কোন টিকেট এজেন্ট যেন যাত্রীদের নিয়ে টানাহেচড়া না করেন সেজন্য সতর্কবাণী আসছিল মাঝে মধ্যেই। শফিক বেশ খানিকটা দেরি করল। মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে একজন নিকটাত্মীয়কে দেখতে গিয়েছিল। যাই হোক ৯টা ৪৫ মিনিটের গোল্ডেন লাইন আজমিরি এন্টারপ্রাইজের একটা বাসের টিকেট কেটে সবে গাড়িতে উঠব অমনি মহাখালী থেকে ফোন আসল। রোগীকে রক্ত দিতে হবে। শফিকের ব্লাড ম্যাচ করা তাই তাকে যেতে হবে। অগত্যা টিকেট ফেরত দিয়ে সিএনজি নিয়ে হাসাপাতালের পথে ছুটলাম দুজন। হাসপাতালে গিয়ে রক্ত দিয়ে ফিরতে ফিরতে ঘড়িতে সাড়ে ১১টা। একই কাউন্টার থেকে বেলা পৌনে ১২ টার দুটো টিকেট কেটে চেপে বসলাম।

ঢাকা থেকে ফরিদপুর (গুগল ম্যাপে), মাঝে পদ্মায় ফেরি পারাপার

ঢাকা-ফরিদপুর রুট, গুগল ম্যাপ (মাঝে ফেরি পারাপার)

ঢাকা ফরিদপুর রুটের মূল চ্যালেঞ্জ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। আমাদের দূরপাল্লার বাসটি বেশ দ্রুত পৌঁছে গেল পাটুরিয়া ঘাটে। স্রষ্টা সহায় ছিলেন। কোন সিরিয়ালে পড়তে হয়নি আমাদের। ঘাটে পৌঁছার সাথে সাথেই একটা ছোট্ট ফেরিতে উঠে গেল আমাদের বাস। গ্রীষ্মের প্রখর রোদে নদীর ঢেউ উপভোগ করার সুযোগ ছিল না খুব একটা। তারপরও নামলাম ঠান্ডা পানি আর বিস্কিট কেনার জন্য। গতবার খুলনার বাগেরহাট থেকে ফেরার সময় বেশ দারুণ একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল। এবার তাই ফেরিঘাটের বিষয়টা নিয়ে প্রবল আগ্রহ ছিল না। শুনলাম ফেরি নিয়ে কিছু গল্প, ভিআইপি পাস আর সিরিয়াল টপকে যাওয়ার কলাকৌশল।মন ভাল হয়ে গেল রাজবাড়ী পৌঁছতেই। রাস্তার দুধারে গাছের সারি। শফিক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল। ওদিকে জমির দাম নাকি খুব কম। পদ্মা সেতু হয়ে গেলে হয়ত অনেক বাড়বে। কিন্তু সেটাও তো অনেক দেরি। এত্ত সুন্দর জায়গায় থাকতে পারলে মন্দ হত না। কিছুদূর পরপর রেললাইন ক্রসিং, ব্রডগেজ রেলপথ। বেশ লাগছিল, ট্রেনে চড়ার প্রচন্ড শখ হল। কখনও ব্রজগেজ ট্রেনে চড়ার সুযোগ হয়নি তাই আফসোস হচ্ছিল। তবে ট্রেনের দেখা মেলেনি। বেলা সাড়ে তিনটায় ফরিদপুর শহরের ভাঙা রাস্তার মোড়ের কাছে নামলাম বাস থেকে। ইচ্ছে ছিল বাগাটের মিষ্টি দিয়ে ফরিদপুরে যাত্রা শুরু করার। কিন্তু তাড়াহুড়ো করার বিষয়টা মাথা থেকে সরিয়ে দিতে হল রক্ত দিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়া বন্ধুর দিকে তাকিয়ে। ব্যাটারিচালিত রিকশা চলে ফরিদপুর শহরে। সিলেট শহরের মত এখনও বাঁধার মুখে পড়েনি দ্রুতগতির রিকশাগুলো। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকেরও ছড়াছড়ি। যে কোন জায়গায় স্বল্প খরচে যাওয়ার অন্যতম বাহন এই ইজিবাইক। রিকশা নিয়ে অালীপুর হয়ে পৌছে গেলাম খন্দকার হোটেল এন্ড রেস্টেুরেন্টের মোড়টাতে। সেই হোটেলের পাশে একটি নাম না জানা ছোট্ট হোটেলে দুপুরের খাবার খেলাম। পরিবেশটা ভাল ছিল হোটেলের, খাবার মানও অসাধারণ। বেশ খাতির যত্ন পাচ্ছিলাম শফিকের কল্যাণে। সেদিন রাতেও ওখানেই রাতের খাবার খেয়েছিলাম। অসাধারণ ছিল রাতের খিচুড়িটা। পাশের নামকরা হোটেল ফেলে কেন সাইনবোর্ডহীন হোটেলে খেয়েছি তা ব্যাখ্যা করব না। শফিকের মত আমিও জীবনে অনেক হোটেল দেখেছি যা ব্র্যান্ড ভ্যালু নয়, খাবার মানের জন্য সবার হৃদয়ে স্থান করে নেয়।

রিকশা নিয়ে চলে এলাম শফিকের কর্মস্থল ও আবাসস্থল জেলা প্রশাসকের অফিস এলাকায়। আসার পথে দেখা মিলল ফরিদপুর সদর হাসপাতাল, ডাকঘর, রাজেন্দ্র কলেজসহ বেশ কিছু সরকারি অফিসের। ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসছিল। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেছি, বাসে উঠেও ঘুম আসেনি। রুমে ঢুকে দেখি বাংলা ইংরেজি দৈনিকের স্তূপ। একজন নিবেদিতপ্রাণ ছাত্র ও সর্বোচ্চ সরকারি ক্যাডার প্রত্যাশীর কক্ষ যেমন হতে পারে ঠিক সেরকম। আমি শুয়ে পড়লাম, শফিক বেড়িয়ে গেল ব্যক্তিগত কাজে। সন্ধ্যার পর আমরা শহর দেখতে বেরুলাম। প্রথমেই যেটা লক্ষ করলাম সেটা হল শফিক এলাকায় বেশ পরিচিত। সর্বস্তরের মানুষের সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। ইসলামী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা মাগুরার শামীম ভাইয়ের সাথে পরিচিত হলাম।

আবলুম রেস্তোরার একাংশ

আবলুম রেস্তোরা, শেখ মুজিব রোড, ফরিদপুর

আমার সাধারণত রেস্টুরেন্ট নিয়ে আগ্রহ কম। তারপরও শেখ মুজিব রোডের ABLOOM রেস্টুরেন্টের ইন্টেরিয়র ডিজাইন খুব ভাল লেগেছে। হালকা নাস্তা সেড়ে বেড়িয়ে পড়লাম ধলার মোড়ের উদ্দেশ্যে। জায়গাটা গ্রীষ্মের গরমে অনেক স্বস্তিদায়ক। পদ্মার পাড়ে বাঁধ দেয়া। সেই বাঁধের রাস্তা ধরে আমরা খানিকটা এগিয়ে গেলাম। সিমেন্টে বাঁধানো বেঞ্চে বসে খানিকটা সময় আড্ডা দিলাম আমরা তিনজন।

ফরিদপুরে পৌঁছানোর দিন সন্ধ্যাবেলাটা অনেক জমে উঠেছিল। পদ্মার পাড় থেকে আমরা চলে গেলাম সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত অফিসার্স ক্লাবে। আবিষ্কার করলাম শফিকের ক্যারম খেলায় পারদর্শিতা। পর পর দুটো গেম হেরে গেলাম শোচনীয়ভাবে। চলছিল সানরাইজার্স হায়দারাবাদের খেলা। বিশাল টিভি স্ক্রিনে খেলা দেখতে বেশ ভাল লাগছিল। মুস্তাফিজের বোলিংয়ের সময়টাতে বিরতি দিয়ে দিয়ে খেলছিলাম আমরা। খেলা শেষে রাতের খাবারের জন্য ফিরে এলাম সেই হোটেলটিতে। তারপর হেঁটে হেঁটে আবার ফিরে এলাম ডিসি অফিসে। তখন বেশ কিছু সরকারি অফিস দেখতে দেখতে হাঁটছিলাম রাস্তা দিয়ে। শফিক অম্বিকা ময়দানের কথা বলল যা কিনা ফরিদপুরের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, অনেকটা ঢাকার রমনার বটমূল, সিলেটের চৌহাট্টার শহীদ মিনার কিংবা চট্টগ্রামের নজরুল স্কয়ারের মত।

বৈশাখী মেলা চলছিল কোর্ট প্রাঙ্গনের সামনের রাস্তায়। সেদিনই ছিল শেষদিন। আমরা এসে দেখলাম সবাই জিনিসপত্র গোছাতে ব্যস্ত। মেলার বেঁচাকেনা শেষে ক্লান্ত ব্যবসায়ীরা পাততারি গোটাতে ব্যস্ত। মেলার অস্থায়ী একটা টং দোকানে চা পান করলাম। ফিরে এলাম শফিকের আড্ডায়। সেদিন গরমটা একটু বেশিই লাগছিল। গোসল সেরে তাড়াতাড়ি বিছানায় গেলাম। ঘুম আসছিল না কিন্তু শুয়ে থাকতে খুব ভাল লাগছিল। সকালে ঘুম ভেঙে গেল। অস্থিরতা কাজ করছিল। কখন ঘুরাঘুরি শুরু হবে? কিন্তু সূয্যিমামা মোটেই সদয় ছিলেন না সেদিন। শফিক অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আমাকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল। জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনের যাদুঘরটি দিয়ে শুরু করলাম আমাদের দিনটি।

ফরিদপুর জাদুঘর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গন

ফরিদপুর মিউজিয়াম, জেলা পরিষদ প্রাঙ্গন

নাস্তা করলাম জেলা পরিষদের পাশের একটি রেস্টুরেন্টে। পরটার মানটা খুব ভাল ছিল। তারপর চলে গেলাম প্রসিদ্ধ ঠাকুরের মিষ্টি খেতে। স্বাদের দিক থেকে মিষ্টিটা বেশ ভাল লাগল। তারপর যাত্রা করলাম পল্লীকবি জসীম উদদীনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির উদ্দেশ্যে। অম্বিকাপুরে কবির বাড়িটা বেশ সুন্দর। সাদামাঠা অথচ প্রত্যেকটা জায়গায় শিল্পের ছোঁয়া। রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে দর্শনার্থীদের ফেলে যাওয়া খাবারের প্যাকেট এবং অন্যান্য দৃষ্টিকটু অাবর্জনা পবিত্র পরিবেশটাকে কিছুটা নির্জীব করে দিয়েছে। অাকাশ সংস্কৃতির যুগে অামরা প্রকৃত মূল্যবান বিষয়গুলোকে অাস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করছি তার প্রমাণ ছোট্ট ছো্ট্ট জাদুঘরগুলোর প্রতি অযত্ন, অবহেলা। কর্তৃপক্ষ অর্থ অাত্মসাৎ করার সুযোগ না পেলে শিল্পকলাকেও ছাড় দেবে বলে মনে হয় না। অফিসার্স ক্লাবের যতটা রক্ষণাবেক্ষণ হয়, পল্লীকবির বাড়ির জাদুঘরটির ততটা যত্ন নেওয়া হয় এমনটা মনে হল না। অামাদের সমাজের ব্যাধিগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে এ ধরনের জায়গায় গেলে। বগুড়ার ঐতিহাসিক স্থানগুলো দেখার পরও অামি প্রচন্ড ধাক্কা খেয়েছিলাম। অামাদের শিক্ষা কি অাদৌ কোন কাজে অাসছে?

পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের সমাধি

পল্লীকবির সমাধি, অম্বিকাপুর, ফরিদপুর

কবির বাড়ির একটি কক্ষের উপর বেশ বড় করে লিখা ছিল কবিকে ফিচার করা ওয়েবসাইটের ঠিকানা (www.jasimuddin.org)। পরবর্তীতে অাবিষ্কার করলাম ডোমেইনটি পুন:নির্দেশ করা। অবাক হলাম, বেশ খানিকটা কষ্ট পেলাম। অামাদের এই দেশে সাধারণ মানের সরকারি পোর্টাল করতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান। অার পল্লীকবির পোর্টালটির নিজস্ব হোস্টিং নেই। অামি অার শফিক কয়েকটা ছবি তুললাম, দেখতে শুরু করলাম পল্লীকবির বিভিন্ন কর্মের বড় বড় প্রিন্টগুলো অার পুরনো ছবিগুলো। অল্প সময়ের মধ্যে অামরা যতটুকু সম্ভব দেখে নিলাম। একজন কবি, যার কর্ম নিয়ে অভিসন্দর্ভ হতে পারে তার স্মৃতিবিজরিত বাড়িতে অনেকটা সময় থাকার ইচ্ছা ছিল কিন্তু অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো দেখার তাড়া থাকায় দ্রুত বেড়িয়ে পড়লাম। এরপর সেই বিখ্যাত বাগাটের মিষ্টি দই খাওয়ার পর্ব। চলে এলাম হাজরা তলা ট্রাফিক মোড়ে। বগুড়ায় যেমন সর্বত্র বগুড়ার দই কিংবা কুমিল্লায় অজস্র মাতৃভান্ডার তেমনি ফরিদপুরে অনেকগুলো বাগাটের মিষ্টান্ন ভান্ডার। বাগাট রাজকুমারে এসে বিখ্যাত সেই স্বাদ নেয়া হল। দইটা প্রচন্ড ভাল লেগেছে অামার। অামার খাওয়া শ্রেষ্ঠ দই।

জগদ্বন্ধু সুন্দরের আশ্রম

জগদ্বন্ধু সুন্দরের আশ্রম

ফরিদপুর ফরিদপুর পুরনো বাসস্ট্যান্ডের কাছে জগদ্বন্ধু সুন্দরের অাশ্রমে অাসলাম (যা স্থানীয়ভাবে অঙ্গন নামে পরিচিত) । পূজা-অর্চনা চলছিল। গ্রীষ্মের দাবদাহে ভক্তদের অানাগোনা কম। নতুন ও পুরাতন বেশ কিছু ভবন অার দেবদেবীর মূর্তি ছড়িয়ে অাছে সেখানে। স্থানটির রক্ষণাবেক্ষণ বেশ ভালভাবে হয় এবং বেশ বড় একটি এলাকা নিয়ে অাশ্রমটি সুন্দরভাবে টিকে অাছে। এবার নদী গবেষণা ইন্সটিটিউটে যাবার পালা। ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের পাশেই বিশাল কম্পাউন্ড নিয়ে নদী গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ওখানে পরিচিত কেউ না থাকায় অামরা সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করতে চাইলাম না। তাছাড়া সময়টাও দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময় নয়। বিশাল সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে সমস্যা হয় এখানেও একই সমস্যা দেখতে পেলাম। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষন ও অাভ্যন্তরীণ পরিবহনের অভাবে পর্যটনের জন্য বিপুল সম্ভাবনাময় স্থানটি অবহেলিত। ততক্ষণে গরমে অামাদের প্রাণ দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। ফিরে এলাম অামাদের ডেরায়। ফরিদপুর শহর থেকে খানিকটা দূরে অবস্থিত মথুরাপুরের দেউল কিংবা পাতরাইল মসজিদ কোনটাই দেখা হল না। বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়ক মুন্সী অাবদুর রউফ গ্রন্থাগার এবং স্মৃতি বিজড়িত জাদুঘরও বাদ পড়ল।

বিকেলে রোদ কিছুটা পড়ে এলে বেড়িয়ে পড়লাম সাতৈর মসজিদের উদ্দেশ্যে। জেলা বাস টার্মিনাল থেকে বোয়ালমারির লোকাল বাসে উঠে পড়লাম। মাঝকান্দি-গোপালগঞ্জ সহাসড়কের পাশেই সাতৈর বাজারের সাথেই সে প্রাচীন মসজিদ। সেখানে গিয়ে অাছরের নামাজ অাদায় করলাম অামরা। যাবার পথে বিসিকের স্থানীয় শিল্পনগরী দেখাতে ভুলল না বন্ধু শফিক। তারপর পরিশ্রান্ত অবস্থায় ফিরে এলাম ফরিদপুরে। পরদিন সকাল থেকে অফিসের কাজে হাত দিতে হবে। তাই অার দেরি না করে সন্ধ্যা ৭ টার বাস ধরলাম। একই বাস, গোল্ডেন লাইন। প্রিন্টেড টিকেট, এসি কাউন্টার, নিচতলার পাশাপাশি দুতলায় বসার জায়গা, নামাজের ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে অসাধারণ। অাসার সময়ও অনেকটা দ্রুত ঢাকায় পৌছে গেলাম। রাত সাড়ে দশটায় গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিল বাস।